Rohingya Crisis in Ongoing Reality

172

মিয়ামারের আভ্যন্তরীণ সংঘাত ও রাখাইনে আরাকান আর্মির সাথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের তীব্রতা স্তিমিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দৃশ্যমান না হওয়ার কারণে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। চলমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সমস্যা দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি আরও জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। গত সাত বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের বোঝা টেনে চলেছে। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা কমে আসছে এবং তাদের কারণে দেশের নিরাপত্তাহুমকি সৃষ্টি হচ্ছে।

বাংলাদেশের ভেতরে ক্যাম্প পরিস্থিতিঃ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কাজকর্ম চলছে এবং প্রায়ই নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি হচ্ছে। কতিপয় সন্ত্রাসী ক্যাম্পে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার, মাদক, মানবপাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ বাণিজ্য ও দোকান দখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের একটা বড় অংশ মাদক ও অস্ত্র চোরাকারবারে জড়িত। ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) তৎপরতা বেড়েছে। আরসা আধিপত্য বিস্তার, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত। সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ধরার জন্য উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে তাদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং আরসার কিছু সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত কিছু এনজিও’র বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকা-ে জড়িত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, কোনো সংস্থা ও প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী রাষ্ট্র, সরকার ও প্রত্যাবাসনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত হতে পারবে না। প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ফিরে যাবার বিষয়ে নিয়মিত প্রেষণার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে ও কোনো মতভেদ গ্রহণযোগ্য হবে না।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানান। আইওএম মহাপরিচালক ৭ মে প্রধানমন্ত্রীর সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নারী ও শিশুরা ব্যাপক অনিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং সেখানে নারী ও শিশু পাচারকারীরা সক্রিয়। বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের নিরাপদ অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেছে এবং ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য নতুন উৎস থেকে আরও তহবিল সংগ্রহ এবং ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করতে আইওএমকে সহায়তা করার জন্য আহ্বান জানান। ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। ভাসানচরে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য কোনোভাবেই যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে আইওএম।

২২ মে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ও ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পানীয় জলের সংকট, নারী-শিশুদের দুর্ভোগ, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত-লড়াই এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নানা দিক সম্পর্কে অবহিত হন। পেনি ওং টেকসই ও নিরাপদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে ও রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবা কার্যক্রমে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতাও অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান।

১২ মে কক্সবাজারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। তাঁরা ক্যাম্প পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ এবং নানা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। রোহিঙ্গা নেতারা কমিটির সদস্যদের কাছে মিয়ানমারে ফিরে যেতে তাদের আগ্রহের বিষয়ে জানায়। কমিটি এই পরিদর্শনের প্রেক্ষিতে সংকট নিরসনে সুপারিশমালা প্রণয়ন করবে বলে জানায়।

নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া ইয়োহেই ভাসানচর পরিদর্শন করে সেখানে মাছ চাষের সম্ভাবনা ও সুযোগ দেখে জেলেদের মাছ ধরার ক্ষেত্রে নৌকা ব্যবহার, মাছ চাষে দক্ষতা আনা এবং মাছ ক্রয়-বিক্রয়ে দক্ষতা বাড়াতে বলেন। তিনি ভাসানচরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে মৎস্য চাষ ও রোহিঙ্গা যুবদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ সরকার ভাসানচরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে এবং এসব কার্যক্রমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আরও বেশি মাত্রায় সম্পৃক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় এবং ইউনিসেফ ও ব্র্যাক, ইউএসএ’র আর্থিক পৃষ্টপোষকতায় প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। জীবিকায়ন ও দক্ষতা উন্নয়ন (এফএসএল) কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৯ শত ৫০ জনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাসিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার সার্বিক উন্নয়ন ঘটেছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভাসানচরে ৮ হাজার ২২২টি রোহিঙ্গা পরিবার ৩৫ হাজার ২৬ জন ব্যক্তি বসাবাস করছে। ভাসানচরে আন্তর্জাতিক সহায়তায় আরও আবাসন নির্মাণ ও রোহিঙ্গা স্থানান্তর করা গেলে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোর উপর চাপ ও জনঘনত্ব কমবে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। রোহিঙ্গারা ভাসানচরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করে স্বাবলম্বী হয়ে আত্মউন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।

রাখাইন পরিস্থিতিঃ রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আরাকান আর্মির (এএ) কাছে অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এএ’র সাথে সংঘর্ষের সময় রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক ধরে এএ’র বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ দিচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের যুদ্ধক্ষেত্রে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে জানা যায়। আরাকান আর্মিও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু হতে বাধ্য করছে, তাদের বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে এবং সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়। মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার থমাস অ্যান্ডুস রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এএ’র ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ ঘটনার অবসানের আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেছেন যে, রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সে দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিবদমান গোষ্ঠিগুলোর চলমান সশস্ত্র সংঘাত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে জানায় ঢাকায় মিয়ানমারের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত অং কিও মো। এ সময় রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকারসহ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই চলমান পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়। রাষ্ট্রদূত অং কিও মো মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘাতকে প্রত্যাবাসনের অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে, তার দেশ এ বিষয়ে আরও সচেষ্ট হবে বলে আশ্বাস দেন। রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে একটা নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা গেলে এবং সেখানে জাতিসংঘ এ দাতা সংস্থাগুলো নিরাপদ করিডোর তৈরি করে সহায়তা প্রদান করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। সামনের দিনগুলোতে এই উদ্যোগ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়ক হতে পারে।

চলমান কার্যক্রম ও করনীয়ঃ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট ও জাতিগত সংঘাত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা মামলায় দ্রুত একটি ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে আশা করা যায় এবং এর ফলে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছে এবং একই সাথে আন্তর্জাতিক আদালতের আশ্রয় নিয়েছে। রাখাইন সমাজের ওপর প্রভাব থাকায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতে এএ’র প্রচারণাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যাম্প এলাকার জনঘনত্ব কমানো জরুরি। এ জন্য রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর প্রয়োজন। জনঘনত্ব কমানো গেলে ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। একই সাথে ক্যাম্পে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য যে ব্যয় হবে সে জন্য সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য প্রয়োজনীয় তৎপরতা ও উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বাড়াতে ছোট ছোট দল গঠন করে বিভিন্ন ট্রেড প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তারা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে পেশাগত কর্মজীবন গড়তে পারবে। দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তখন তারা সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। রোহিঙ্গাদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলমান রাখতে হবে।

ত্রাণ সহায়তা হ্রাসের ফলে রেশন কর্তন, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, সহিংসতা এবং রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠিগুলোর তৎপরতা বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জীবন ও মানবিক সহায়তা হুমকির মুখে ফেলেছে। চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য কোনোভাবেই যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য আইওএম কাজ করছে। সামনের দিনগুলোতে ত্রাণ সহায়তা হ্রাস পেলে যে সমস্যার সৃষ্টি হবে তা সামলানোর জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য জাতিসংঘ ও অন্যান্য সাহায্য সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলকে নতুন দাতা খোঁজার ব্যবস্থা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই সংকটের অগ্রগতির বিষয়ে সবাইকে হালনাগাদ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে রাখাইনে ফিরে যাওয়ার প্রেষণা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। চলমান প্রেক্ষাপটে রাখাইনের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ অঞ্চল ও মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠা করতে জাতিসংঘ ও সাহায্য সংস্থাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআর, আসিয়ান, ভারত ও চীনকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করে সংকটের সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

– ব্রিঃ জেঃ হাসান মোঃ শামসুদ্দীন (অবঃ), এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এম ফিল, মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা বিষয়ক গবেষক (সিবিজিএ)।

দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত [লিংক]