Significance of the Verdict of International Court of Justice

0
175

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটি সাহসী ও ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। চলমান গাজা যুদ্ধ গণহত্যার অন্যতম উদাহরণ হিসাবে সমগ্র বিশ্বেই স্বীকৃতি পেয়েছে। এরকম একটি যুদ্ধ এককভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইল অনবরত বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে গাজাবাসীর ওপর। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রেরও অনুরোধ উপেক্ষা করে নেতানিয়াহু সরকার মানবতার চরম লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। বস্তুত গাজা যুদ্ধের নৃশংসতার উদাহরণ আধুনিক বিশ্বে বিরল। ইসরাইল একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র, যার পেছনে রয়েছে বিশ্বের অনেক বৃহৎ শক্তির সমর্থন, সেই দেশটি ক্রমাগতভাবে ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজাকে বলা হয় বিশ্বের উন্মুক্ত জেলখানা, যেখানে নিত্যদিন ফিলিস্তিনিরা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। ইসরাইল সেখানে প্রতিনিয়ত হামলা চালিয়ে নারী, শিশুসহ ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এবারের হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গাজা যুদ্ধকে বিশ্বের নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাষ্ট্র ‘ভয়ংকর ঔদ্ধত্য’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। উল্লেখ্য, বিশ্বে মানবতা সুরক্ষার ক্ষেত্রে এবং শান্তির জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করে আসছে।

আমরা লক্ষ্য করেছি, গাজা যুদ্ধের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বন্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার নেলসন ম্যান্ডেলার মানবিক চিন্তার ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা রুজু করেছিল। ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সেই মামলাটি করা হয়। ৮৪ পৃষ্ঠার একটি দলিলের মাধ্যমে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। উল্লেখ্য, ইসরাইল ১৯৪৮ সালে গৃহীত গণহত্যা কনভেনশন চরমভাবে লঙ্ঘন করে চলেছে। বাংলাদেশও দক্ষিণ আফ্রিকার ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এ মামলার একটি পক্ষ হিসাবে ঘোষণা করে এবং গাজা যুদ্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশের যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি বাংলাদেশের যে ঐতিহাসিক অবস্থান, সেটি ব্যক্ত করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার এ মামলার কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করার মতো। প্রথমত, আন্তর্জাতিক আদালতকে গাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার অনুরোধ করা হয়। দ্বিতীয় যে বিষয়টি এ মামলায় আলোকপাত করা হয় সেটি হচ্ছে, সামরিক অভিযানটি যেন কোনোভাবেই অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে। তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে, গাজায় খাদ্য, পানি, জ্বালানি, বাসস্থানসহ দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সরবরাহে যেন কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা না হয়। চতুর্থত, ক্রমাগত ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইল যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছে, সেটি বন্ধ করা। গাজায় ইসরাইল যুদ্ধের মাধ্যমে যে ধরনের গণহত্যা চালাচ্ছে, তার আলামত বা নমুনাগুলো যেন কোনোভাবেই ধ্বংস করা না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া। গণহত্যা কনভেনশনে যে আইন আছে তা যেন ইসরাইল মেনে চলে এবং যারা এ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়। আরেকটি বিষয় যুক্ত করা হয়: মামলাটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে বা আরও বেশি জটিল হবে-আদালত যেন এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে সময়ে সময়ে এ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করার কথা বলা হয়।

অর্থাৎ একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবতার কথা বিবেচনায় রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকা এ মামলাটি করেছে। মামলার ভেতরে যুদ্ধ বন্ধ থেকে শুরু করে চলমান পরিস্থিতিতে সেখানে কীভাবে একটি মানবিক অবস্থা তৈরি করা যায়-এ বিষয়গুলো দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্য ছিল। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক আদালত শুনানি গ্রহণ করে এবং আদালতের প্রধান মার্কিন বিচারক ৪৫ মিনিটব্যাপী যে রায়টি ঘোষণা করেছেন, সেখানে ৬টি বিষয়ে ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা বা সারা বিশ্বের অন্যতম যে দাবি-যুদ্ধ বন্ধ করা, সে বিষয়ে এ রায়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আদালত অন্তর্বর্তীকালীন রায় বা নির্দেশনা দিয়েছে।

প্রথমত, ১৯৪৮ সালের জেনেভা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ২-এ যেসব ব্যবস্থার কথা বলা আছে, সেগুলো ইসরাইলকে দ্রুত অনুসরণ করতে হবে। ফিলিস্তিন জাতিকে সম্পূর্ণভাবে নিধন করার যে প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে শারীরিক বা মনস্তাত্ত্বিক কোনো ধরনের ক্ষতি বা কোনো ধরনের নিপীড়ন চলমান থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আদালতের ১৫ জন বিচারক এ ব্যবস্থার পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং দুজন ভোট দিয়েছেন এর বিপক্ষে, যাদের একজন হচ্ছেন ইসরাইলের প্রতিনিধি এবং আরেকজন উগান্ডার একজন বিচারক। দ্বিতীয় যে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে তা হলো, ইসরাইলের সামরিক বাহিনী অবশ্যই গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘিত হয় এমন তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হবে না এবং এটির পক্ষেও ১৫ জন বিচারক রায় দিয়েছেন এবং দুজন এর বিরোধিতা করেছেন। তৃতীয়ত, ইসরাইল অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা ঘটানোর সঙ্গে যারা সরাসরি যুক্ত ছিল এবং যারা গণহত্যা সংঘটনে উদ্বুদ্ধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনবে। ১৬ জন বিচারক এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং উগান্ডার বিচারক বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। চতুর্থত, আন্তর্জাতিক আদালত গাজায় মৌলিক সেবাগুলো যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। গাজায় অবস্থিত বেসামরিক ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য মানবিক সহায়তা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়-সেক্ষেত্রেও ১৬ জন বিচারক পক্ষে ভোট দিয়েছেন, একজন বিরোধিতা করেছেন। ইসরাইল যে ধরনের যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা ঘটাচ্ছে, সেখানে তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া যেন বিঘ্নিত না হয় এবং কোনো ধরনের আলামত যেন ধ্বংস না হয়, রায়ে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ষষ্ঠত, আদালত বলেছে, ইসরাইলকে অবশ্যই এ রায়ের এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক আদালতে তার প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা এ পরিপ্রেক্ষিতে তার একটি জবাব দেবে।

কাজেই দেখা যাচ্ছে, মূলত ছয়টি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালত এ ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে এবং এ রায়ের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। জাতিসংঘের অন্যতম একটি স্তম্ভ হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক আদালত। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়টি ইসরাইল ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট না হলেও যেভাবে দ্রুত রায় দেওয়া হয়েছে, সে ব্যাপারে তারা সন্তুষ্ট। হামাসও এটিকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্বের সব অংশ থেকে এটিকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং ইসরাইলের প্রতি এটি বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে মূলত ইসরাইলের গণহত্যা ও নিষ্ঠুরতার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়া হলো। ইসরাইল বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে উপেক্ষা করছে, এমনকি ইসরাইলকে যেসব শক্তিশালী রাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে সমর্থন করেছে, তাদের সাবধানতাও ইসরাইল উপেক্ষা করছে। এর ফলে একটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বস্তুত ৭৫ বছর ধরেই ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা এবং চরম নিষ্ঠুরতা চালিয়ে আসছে এবং তাদের ভবিষ্যৎকে ক্রমাগত অন্ধকারাচ্ছন্ন করছে। তবে ইসরাইলের বর্তমান সরকার এমন একটি ভয়ংকর অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা বিশ্বে বিরল। বর্তমান বিশ্বে যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানুষের জীবনের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে ইসরাইলের এ বর্বরতা সভ্যতার প্রতি চরম পরিহাস। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা যেমন: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ বিষয়গুলো তুলে ধরছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আদালতের এ রায়টি ইসরাইলের নিষ্ঠুরতার মাত্রা কোথায় পৌঁছেছে তার একটি নিদর্শন বলা যায়। রায়টি নিঃসন্দেহে সর্বসম্মতিক্রমে হতে পারত। কিন্তু উগান্ডার একজন বিচারক বিরোধিতা করায় তা হয়নি। ইসরাইলের প্রতিনিধি যে বিরোধিতা করবেন, এটি জানাই ছিল। তারপরও ১৫ জন বিচারক এ রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং ইসরাইলকে সরাসরি যুদ্ধ বন্ধের কথা না বললেও যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা প্রকারান্তরে যুদ্ধ বন্ধেরই শামিল। এটি নিঃসন্দেহে মানবতার জয়।

যুদ্ধ বন্ধের দায়িত্ব মূলত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের। সেক্ষেত্রে গাজা যুদ্ধ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া নিরাপত্তা পরিষদের অনেক আগেই উচিত ছিল। অতীতে আমরা দেখেছি, কোনো রাষ্ট্র যখন কোথাও আক্রমণ করেছে অথবা তেমন কোনো ঘটনা ঘটেছে, তখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের এবারের নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদ এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেনি। সেদিক থেকে আন্তর্জাতিক আদালতের এ রায়টি ঐতিহাসিক এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের যে দায়ভার, যে ব্যর্থতা, তা কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে। তবে রায়টি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে ইসরাইলকে বাধ্য করার সুযোগ নেই এবং তা শুধু ইসরাইলের ক্ষেত্রে নয়, অনেক দেশের ক্ষেত্রেই কঠিন। কিন্তু এর যে কূটনৈতিক ও নৈতিক প্রভাব রয়েছে, নিঃসন্দেহে তার গুরুত্ব কম নয়। বাংলাদেশ এ ধরনের একটি তৎপরতার সঙ্গে সব সময় ছিল। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে একই সুরে তার অবস্থান ঘোষণা করেছে অনেক আগেই। ফলে এ বিজয় শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার নয়, বরং বাংলাদেশেরও একটি কূটনৈতিক ও নৈতিক বিজয়। ১৫ জন বিচারক পক্ষে এবং ২ জন বিচারক বিপক্ষে ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি একটি ব্যাপক বৈশ্বিক সমর্থন এ রায়ের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে।

এ রায়টি পশ্চিমা বিশ্বের কাছেও গুরুত্ব পাবে। কারণ, ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য পশ্চিমা বিশ্ব এ রায়কে কাজে লাগাতে পারে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং তাদের ন্যায্য সংগ্রামেরও স্বীকৃতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক আদালত। ফলে ১৯৪৮ সাল থেকে চলমান ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একটি ভিন্নমাত্রা আমরা দেখতে পেলাম আন্তর্জাতিক আদালতের এ শক্তিশালী রায় ঘোষণার মাধ্যমে। ইসরাইলের ভেতরে, বিশেষত ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে নিশ্চয়ই এ নিয়ে আলোচনা হবে এবং হচ্ছেও। দেশটিতে যারা ধর্মনিরপেক্ষ এবং শান্তির পক্ষে, তারাও এটিকে সমর্থন জানাবেন। ফলে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ভেতর থেকে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হবে।

– ড. দেলোয়ার হোসেন: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রেষণে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োজিত।

দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত [লিংক]