Israel-Hamas War and the United Nations

211

গত ১ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্থনি ব্লিনকেনের সিনেটে ইসরাইলের সহায়তা বিষয়ে শুনানি চলাকালে যুদ্ধ-বিরোধী প্রতিবাদকারিদের কর্তৃক “যুদ্ধ বিরতি এখনই,” “গণহত্যা সাহায্য বন্ধ কর” স্লোগানগুলো বার বার উচ্চারিত হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও সমগ্র বিশ্বেই ফিলিস্থিনিদের পক্ষে প্রতিবাদ চলছে কিন্তু মার্কিন সিনেটের ভেতরে প্রতিবাদের বিষয়টি নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে একটি বিষয় প্রতীয়মান হয় মানুষ প্রতিবাদ করছে, যুদ্ধ বন্ধের দাবী করছে কিন্তু কতিপয় শক্তিশালী সরকার বা রাষ্ট্র ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন দেশ নীরব দর্শকের আচরণ করছে।

স্থলযুদ্ধ শুরু হয়েছে। নিষ্ঠুরতার সকল মাত্রা অতিক্রম করছে। ইসরাইলের বর্বরতা ও গণহত্যা বন্ধ করতে না পারার কারণে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক একজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। ৭ই অক্টোবর থেকে টানা বোমাবর্ষণ এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে গাজা এবং গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ইতোমধ্যে গাজাকে একটি নরকে পরিণত করা হয়েছে। যেই গাজাকে বলা হত একটি খোলা জেলখানা সেটি এখন একটি নরকে পরিণত করেছে ইসরাইলের ক্রমাগত আক্রমণ, ক্রমাগত বোমাবর্ষণে যেখান থেকে নিষ্কৃতি পায়নি মসজিদ, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লোকালয়। এক পৈশাচিক বর্বরোচিত নির্লজ্জ আক্রমণ, নির্লজ্জ সামরিক অভিযান বিশ্ব প্রত্যক্ষ করছে। ইতোমধ্যে নয় হাজারের ও বেশী মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে যার একটি বড় অংশই হচ্ছে শিশু এবং নারী। সমগ্র অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। শরণার্থী শিবিরগুলোতে আক্রমণ করা হয়েছে যেখানে মানুষ বাঁচার জন্য আশ্রয় নিয়েছিল। গাজা নগরীর লক্ষ লক্ষ মানুষ যেমন বাস্তুচ্যুত সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব এবং এই অবস্থায় কোথায় যাবে সেই দিক নির্দেশনাটিও খুঁজে পাচ্ছে না।

হামাস বাহিনীর আক্রমণ যাকে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন ‘ইসরাইলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শূন্যে সংঘটিত’ হয়নি। সে আক্রমণকে কোনভাবেই বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ গত ৭৫ বছর ধরে যে মানুষগুলোকে নিজের ভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, উৎখাত করা হয়েছে যেখানে ফিলিস্তিনিরা শত শত বছর ধরে তাদের নিজের আবাসভূমিতে বসবাস করে আসছে সেখানে একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সেই মানুষগুলোকে তাড়িয়ে দেয়া এবং তাদেরকে টানা ৭৫ বছর ধরে একটি রাষ্ট্রহীন, নির্যাতিত-নিপীড়িত শরণার্থী হিসেবে জীবন কাটানো সেই মানুষের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আক্রমণকে যদি এভাবে দেখা হয় সেটি বিপদজনক এবং এ কথাটিই জাতিসংঘের মহাসচিব বলার চেষ্টা করেছেন। নিঃসন্দেহে কোন বেসামরিক নাগরিক হত্যা কিংবা কোন শক্তি প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। হামাসের সশস্র আক্রমণের বিপরীতে ইসরাইলের মত একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর আক্রমণ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, কতটা প্রতিশোধপরায়ণ হতে পারে, তা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করছে।

যুদ্ধ কোন অবাস্তব বিষয় নয়, যুদ্ধ হয়েছে, যুদ্ধ হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে থামবে না। কিন্তু যুদ্ধের ক্ষেত্রেও আইন আছে, যুদ্ধের ক্ষেত্রেও বিবেক কাজ করে, যুদ্ধের ক্ষেত্রেও নিয়মনীতি আছে। অন্তত ২১ শতকের শেষদিকে এসে মানবসভ্যতার এত জয়গান গেয়ে, মানবতা, মানবাধিকার ও গনতন্ত্রের ফাঁকা বুলি থমকে যায় ইসরাইলের কাছে। যারা মানবাধিকারের কথা বলছে, সভ্যতার কথা বলছে, তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে ইসরাইলের মত একটি রাষ্ট্র তার নিরাপত্তার নামে, আত্মরক্ষার নামে এই নিষ্ঠুর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। সে কারনেই আমরা দেখতে পাচ্ছি পুরোবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। যেকোনো আগ্রাসী রাষ্ট্রের আক্রমণ থেকে রক্ষা, যেকোনো ধরণের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও গণহত্যা বন্ধের ক্ষেত্রে মানুষের ভরসার জায়গা হচ্ছে জাতিসংঘ। গাজাতে যখন ইসরাইল টানা বোমাবর্ষণ করছে ২৩ লক্ষ বসতির প্রায় সকলেই বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, জীবনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, শিশুরা হত্যার শিকার হচ্ছে সেখানে জাতিসংঘ কি করছে। প্রতিপক্ষ শক্তি হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার নামে এই ধরণের গণহত্যা যদি পৃথিবীর অন্যান্য দেশও অনুসরণ করে তাহলে পুরো পৃথিবী কি অবস্থা হবে।

এরকম একটি মানবিক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে। এই পর্যন্ত ৪ টি তৎপরতা দেখা গিয়েছে কিন্তু সেখানে কোনভাবেই প্রস্তাব গ্রহণ করা যায় নি। বরং দেখা গিয়েছে রাশিয়া ও চীন কর্তৃক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবগুলো বারবার ভেটোর শিকার হয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে ধরণের প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেখেছে সেগুলো কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এই মুহূর্তে যেটি সবচাইতে বেশী প্রয়োজন সেটি হচ্ছে যুদ্ধ বিরতি এবং মানবতার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

সামরিক শক্তির এরকম নগ্ন ব্যবহার পৃথিবীর কোন দেশে বা সমাজে অকল্পনীয়। মধ্য যুগীয় ও উপনিবেশিক নির্যাতনকেও ম্লান করে দিয়েছে। রাশিয়া, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের যে প্রস্তাবগুলো ছিল সেগুলো যথেষ্ট পরিমানে ভারসম্পূর্ণ ছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সেই প্রস্তাবগুলোকে ভেটো দিয়ে সেগুলোকে বাতিল করা হয়েছে। ফলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত বিভক্ত যা অতীতেরই একটি প্রতিফলন। অতীতে আমরা দেখেছি যে, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের যে সমর্থন এবং নিরাপত্তা পরিষদের যে স্বীকৃতি প্রয়োজন সেখানেও বার বার ভেটো দিয়ে আজকের এই অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ব বিবেক এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে এবং এই ক্ষেত্রে একটি স্বস্থির জায়গা হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। ইসরাইলের ভয়াবহ আক্রমণ, বোমাবর্ষণ, নির্বিচারে হত্যার ঘটনাগুলোকে বিবেচনায় রেখে সাধারণ পরিষদ একটি জরুরী সভা ডেকে ব্যাপক আলোচনা করেছে। দর-কষাকষির পর একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। মানবতার জন্য যুদ্ধ বিরতির পক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে হবে।

১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটের যে বিন্যাস সেই বিন্যাসটি দেখা যাচ্ছে ১২০টি দেশ এই যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। জর্ডানের নেতৃত্বে ৪০টি দেশের সমর্থন নিয়ে পেশকৃত প্রস্তাবের বিরোধিতা করা রাষ্ট্রের সংখ্যা হচ্ছে ১৪টি। অন্যদিকে ৪৫টি রাষ্ট্র ভোট প্রদানে বিরত ছিল। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটিকে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত বলেছেন যে এটি সাধারণ পরিষদের পক্ষ থেকে একটি সাহসী এবং নৈতিকভাবে শক্তিশালী একটি প্রচেষ্টা, এই চেষ্টাটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। যদিও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ইসরাইল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের কয়েকটি মিত্র দেশ। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে গাজাতে বসবাসরত বেসামরিক নাগরিক এবং সেখানে আক্রমনের ক্ষেত্রে যে আইনগত ও মানবিক বাধ্যবাধকতা সেটি মেনে চলা। এই প্রস্তাবটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্ব বিবেকের অন্যতম কেন্দ্রস্থল হচ্ছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে জাতিসংঘের সাধারণ নিরাপত্তা পরিষদ। এই প্রস্তাবটির মধ্যে রয়েছে মানবিকতার জন্য যুদ্ধ বিরতি, বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করা এবং আক্রমণকারী যেকোন পক্ষ তাদের যে আইনগত ও মানবিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহবান।

ইসরাইল ৭ অক্টোবর থেকে গাজাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার যে চেষ্টা করছে তারা অনেকটা সফলও হয়েছে। তারপরেও যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা রক্ষা করার জন্য জাতিসংঘের এই চেষ্টা। সেই চেষ্টাটিকেও বানচাল করার একটি তৎপরতা আমরা দেখি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরও কয়েকটি রাষ্ট্র সরাসরি বিরোধিতা করেছে যেমন অষ্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ফিজি, গুয়াতেমালা, হাঙ্গেরি, মার্শাল আইল্যান্ড, পাপুয়া নিউ গিনি, প্যারাগুয়ে, তুঙ্গা ও নাউরো। অনেক ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র যাদের এই ধরণের মানবিক পরিস্থিতিতে সবার আগে এগিয়ে আসা উচিত সেই রাষ্ট্রগুলো পর্যন্ত ভূরাজনৈতিক কারণে একটি পরাশক্তির পক্ষ নিয়ে একটা মানবিক প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। এটি নিঃসন্দেহে চরম হতাশার। প্রকান্তরে ইসারাইলের এই বোমাবর্ষণকে সমর্থন করে গিয়েছে।

আরও বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে যে এই প্রস্তাবে যারা ভোট প্রদানে বিরত ছিল এই রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যা ৪৫। এ ধরণের একটা প্রস্তাবের বিরোধিতা করা যেমন অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত, একই সঙ্গে এই প্রস্তাব থেকে বিরত থাকা নিঃসন্দেহে কিছুটা কষ্টদায়ক। এই বিরত থাকার বিষয়টিও নতুন নয়। আমরা জানি যে এখানেও একটি কূটনৈতিক বিবেচনা কাজ করে হয়ত সেগুলো বিবেচনা করেই বিরত থাকা হয়। অবস্থানটি দুপক্ষের জন্যই গুরুত্ব বহন করে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে যে দেশগুলো বিরত ছিল সে দেশগুলোর মধ্যে কিছু কিছু দেশ অতীতে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে, মানবতার পক্ষে ছিল। ইসরাইলের ক্রমাগত নির্যাতন, নিপীড়ন, যুদ্ধ এবং বিভিন্ন রকমের ভয়াবহতার মাধ্যমে ১৯৪৮ সাল থেকে যে ধরণের আগ্রাসন পরিচালনা করে আসছে তার বিরোধিতা করে একটি নৈতিক অবস্থান ছিল, সে দেশগুলো এ প্রস্তাবে বিরত থাকার চেষ্টা করেছে। যে রাষ্ট্রগুলো বিরত থেকেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভারত, ইরাক, দক্ষিণ সুদান, যুক্তরাজ্য, ইথিওপিয়া, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি। এ দেশগুলো ইসরাইলের আক্রমণের বিষয়ে এক ধরণের শঙ্কা প্রকাশ করলেও কূটনৈতিক কারণে হয়ত বিরত ছিল। বিশেষ করে ভারত, ইরাক, ইথিওপিয়ার মত রাষ্ট্র এই প্রস্তাব থেকে বিরত থাকার বিষয়টি নিঃসন্দেহে বিস্ময়ের জন্ম দেয়।

অন্যদিকে উন্নত বিশ্বের বেশ কিছু রাষ্ট্র এগিয়ে এসেছে এই ধরণের পরিস্থিতিতে। ইসরাইলের ক্রমাগত আগ্রাসী আচরণ বন্ধ করার ক্ষেত্রে কার্যকর মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়েছে এরকম বেশ কিছু রাষ্ট্র দেখা যায় যারা নিঃসন্দেহে তাদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করেছে। এই দেশগুলো হচ্ছে বেলজিয়াম, বেলারুশ, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, চীন, কিউবা, ইকুয়েডর, মিশর, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কাজাখস্থান, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মুজাম্বিক, মরক্কো, মিয়ানমার, নামিবিয়া, নেপাল, নিউজিল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, নাইজার, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পেরু, পর্তুগাল, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সেনেগাল, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, শ্রীলংকা, সুদান, সুইজারল্যান্ড, তাজাকিস্থান, সিরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, উগান্ডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম, ইয়েমেন ও জিম্বাবুয়েসহ বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্র প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। পরিষ্কারভাবেই দেখা যায় যারা প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে তাদের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত এবং সেখানে গুটিকয়েক শক্তিশালী রাষ্ট্র রয়েছে তার বাইরে রয়েছে কিছু দ্বীপরাষ্ট্র যারা অনেকাংশে শক্তিশালী রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতার ভোট দিয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত আছে। সেই বিবেক তার পরিষ্কার রায় দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই প্রস্তাবের মাধ্যমে। ১২০টি দেশ অনতিবিলম্বে মানবিকতার জন্য ইসরাইলের এই বর্বর বোমা হামলা এবং এই যুদ্ধ বন্ধ করার কথা বলেছে। এটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। কারণ অতীতেও ইসরাইল আক্রমণ করেছে অতীতেও গাজার সংকট তৈরি হয়েছে। ইসরাইল একচেটিয়া আক্রমণ করেছে, গাজার মানুষ সেটি দেখেছে, ক্রমাগত সহ্য করছে। এবারের আক্রমণ ইসরাইল তার সমস্ত শক্তি দিয়ে এবং মিত্রদেশগুলোর সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন নিয়ে ভয়ংকরভাবে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। অনঢ় অবস্থানে রয়েছে ইসরাইল। এই আক্রমণ অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় ভয়াবহ। এ যুদ্ধটি এতই অসম যে ফিলিস্তিনিরা অর্থাৎ প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রও এখানে যুদ্ধ করছে না, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র এখানে অনুপস্থিত এখানে শুধু হামাসকে নিধনের নামে গাজার এই ২৩ লক্ষ মানুষের উপরে এই নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ উদাহরণ হিসেবে পাওয়া যাবে না। নিঃসন্দেহে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বে লক্ষ লক্ষ প্রতিবাদকারীদের বিবেকই ফিলিস্থিনিদের আশা ভরসা।

– ড. দেলোয়ার হোসেন: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রেষণে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োজিত।

বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত [লিংক]