Global Gateway and New Challenges in Global Politics

0
124

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৩ সালে বিআরআই (বেল্ট অ্যন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ) নামে এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে বিশ্বব্যাপী। বিআরআই একসময় ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে পরিচিত ছিল। যোগাযোগব্যবস্থা কিংবা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উপস্থাপনের প্রশ্নে বিআরআইকে বর্তমানে তুলনা করা হচ্ছে ছাতার (আমব্রেলা) সঙ্গে!

২০১৭ সালে প্রথম বারের মতো ফোরাম তথা আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিআরআই। ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তারও বেশি পরিমাণ অর্থ-অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনাসংবলিত বিআরআইকে আজকের বিশ্বে আখ্যায়িত করা হচ্ছে ‘বিশ্বের বৃহত্তম নেটওয়ার্ক’ হিসেবে। কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করেছে বিআরআই। এ উপলক্ষ্যে বিআরআই তৃতীয় ফোরামের আয়োজন করে বেইজিংয়ে। উক্ত ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে তথা বিআরআইয়ের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। শুধু তা-ই নয়, ৩০টি আন্তর্জাতিক সংগঠনও বিআরআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়।

জানিয়ে রাখা দরকার, বিআরআইয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন কৌশল বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে চীন। এই কৌশলের মাধ্যমে বেইজিং একদিকে বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের কথা বলতে চাইছে, পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্ত করতে চাইছে নতুন মাত্রা। বিআরআইয়ের মাধ্যমে একদিকে স্থল-যোগাযোগ চীন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত করার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সমুদ্রপথকেও বিবেচনা করা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে।

উল্লেখ করার বিষয়, বিআরআইয়ের নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হতে দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। এর কারণ, চীন একসময় বিসিআইএম ইকোনমিক করিডর তথা বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিল এবং যা বিআরআই পরিকল্পনার অংশও ছিল। যদিও সেই উদ্যোগ গড়ায়নি বেশি দূর।

আরো উল্লেখ্য, বর্তমানে সিপ্যাক তথা চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর চলমান রয়েছে। অন্যদিকে বিসিআইএম করিডর থেকে সরে এসে চীন-মিয়ানমার করিডর স্থাপন করেছে বেইজিং। অর্থাত্, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছেন শি।

আমরা জানি, ইতালিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ বিআরআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অর্থাত্, বিআরআইকে বৈশ্বিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, বলতে হয়। সবচেয়ে বড় কথা, বিআরআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ বা অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল কানেকটিভিটির উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয় বিআরআই ফোরামে এ ধরনের নানা বিষয় সামনে এসেছে।

ফোরামে বলা হয়, বিআরআই চালু হওয়ার পর থেকে অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর বাণিজ্যের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ সালে চীনের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৩৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৫৯ ট্রিলিয়ন ডলারে। অর্থাত্, বিআরআইভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সুতরাং, পরিষ্কার হিসাব—বিআরআই চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও কৌশল, যা প্রমাণিত।

বিআরআই নিয়ে সমালোচনা নেই, এমন নয়। বলা হয়ে থাকে, বিআরআইয়ের মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির একধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে চীন! বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে বেইজিং। নিঃসন্দেহে, বৈশ্বিক বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে এ ধরনের নানা দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে, যা বিশ্লেষণের দাবি রাখে বইকি।

আমরা লক্ষ করছি, চীনের বিআরআই পরিকল্পনাকে মাথায় রেখে বিশ্বের অন্যান্য বৃহত্ শক্তিও অনুরূপ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চলমান রয়েছে বর্তমান সময়ে। অনেকের জানা, ২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে, যা গ্লোবাল গেটওয়ে নামে পরিচিত। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয়ান কমিশন ও ইউরোপীয়ান হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের হাত ধরে চালু হয় গ্লোবাল গেটওয়ে। মজার ব্যাপার হলো, গেটওয়ে হচ্ছে ইউরোপের নতুন কৌশল, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে, এসব দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই গেটওয়ের লক্ষ্য। একই সঙ্গে যোগাযোগ, জ্বালানি ও ডিজিটাল কমিউনিকেশনকে আরো শক্তিশালী ও নিরাপদ করার মধ্য দিয়ে বিশ্বে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নকে ‘এক নতুন শক্তি’ হিসেবে হাজির করার লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর চেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গেটওয়ের আওতায় ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর এক বাজেটও ঘোষণা করে। ২০২৩ সালের ২৫ ও ২৬ অক্টোবর গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। সম্মেলনে গ্লোবাল গেটওয়ের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি অংশগ্রহণ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অংশগ্রহণ করেন উক্ত সম্মেলনে।

অনেকে লক্ষ করে থাকবেন, গেটওয়ে ফোরামের মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন চুক্তি হয়েছে এবং সেই চুক্তি অনেকটা বিআরআইয়ের আদলে তথা অংশীদারিত্বমূলক বলেই মনে হচ্ছে। যেমন, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন-মেক্সিকো অংশীদারিত্ব। তাছাড়া গ্লোবাল গেটওয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে সোমালিয়া, কিরগিজস্তান, সেনেগাল, জাম্বিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কিছু রাষ্ট্রের। জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম বারের মতো গেটওয়ের এবারের সম্মেলনে অংশ নিতে দেখা যায়। অংশ নিয়েছে আলবেনিয়াও। সব মিলিয়ে গ্লোবাল গেটওয়ে যে এক নতুন পদযাত্রা শুরু করেছে, সে কথা বলতেই হয়।

গেটওয়ে ফোরামের এবারের সম্মেলনের স্লোগান হচ্ছে, ‘স্ট্রংগার টুগেদার থ্রো সাসটেইনেবল ইনভেস্টমেন্ট’। এর সহজ অর্থ হলো, টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরো শক্তিশালী হওয়া। যাহোক, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের বিআরআইকে মোকাবিলা করার চিন্তা থেকেই নতুন বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে গ্লোবাল গেটওয়ের অবতারণা ঘটেছে।

এই প্রসঙ্গে বলা জরুরি, গ্লোবাল গেটওয়ের মতো বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির চেষ্টায় নতুন কৌশল নিয়ে এগোতে দেখা যাচ্ছে জি-৭কেও (গ্রুপ অব সেভেন)। গ্রুপ অব সেভেনের সঙ্গে ইউরোপের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র যুক্ত রয়েছে এবং বিশেষত বিশ্বের সবচেয়ে শিল্পোন্নত দেশগুলোই রয়েছে এই তালিকায়। চলতি বছর হিরোশিমা শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রুপ অব সেভেনের, যেখানে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের চিত্র লক্ষণীয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করার বিষয়, গ্লোবাল গেটওয়ে কিংবা বিআরআইয়ের আদলেই সাজানো হয়েছে এই পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনা হলো, দ্য জি-সেভেন পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট তথা পিজিআইআই। পিজিআইআইয়ের কর্মপরিকল্পনায় জি-সেভেনের অংশীদারিত্বমূলক এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক শক্তিশালী-মানসম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণের মতো বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই লক্ষ্য পূরণে ২০২৭ সালের মধ্যে ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গঠন করবে জি-৭। এই তহবিল ব্যয় করা হবে অংশীদার দেশগুলোর অবকাঠামোগত চাহিদা, আর্থিক সংকট বা ঘাটতি পূরণসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে।

গ্লোবাল গেটওয়ের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে পিজিআইআই। অর্থাত্, একদিকে গ্লোবাল গেটওয়ে, অন্যদিকে পিজিআইআই—এই দুই প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা ও বৈশ্বিক কাঠামো আরো শক্তিশালী করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এসব উদ্যোগ ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই গ্রহণ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। উদ্যোগগুলো চীনের বিআরআইয়ের আদলে সাজানো হলেও চীনের কৌশলকে মোকাবিলা করাই যে এর মূল উদ্দেশ্য, তা না বুঝতে পারার কথা নয়। বিআরআইয়ের মাধ্যমে চীন যে ধরনের সাফল্য অর্জন করছে, যে ধরনের একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করছে, তার সামনে একধরনের চ্যালেঞ্জ দাঁড় করাতেই উদ্যোগগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে—এ কথার সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ কম।

ঘটনা আরো আছে। কিছুদিন আগে ভারতের নয়াদিল্লিতে আরেক বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জি-২০ শীর্ষ বৈঠক। উক্ত সম্মেলনে একটা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যেগের কথা বলা হয়, যা-ও অবকাঠামো ভিত্তিক। এটা অনেকটা ভারতকেন্দ্রিক, যা ইন্ডিয়া-মিডলইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডর তথা আইএমইসি নামে অবিহিত। এই করিডরের মাধ্যমে ভারতকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, ইসরাইল ও গ্রিসের মতো দেশগুলোকে যুক্ত করা হবে। এই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়। সুতরাং, বলা যেতে পারে—এই উদ্যোগও বিআরআইয়ের আদলেই চিন্তা করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ মে গুজরাটে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এক বৈঠকে জাপান ও ভারতঘোষিত ‘এশিয়া-আফ্রিকা গ্রোথ করিডর’ ও এমনই এক পরিকল্পনা।

যাহোক, এশিয়া আফ্রিকা গ্রোথ করিডর, আইএমইসি, পিজিআইআই, গ্লোবাল গেটওয়ে কিংবা বিআরআই—এই উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিকভাবে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য এসব উদ্যোগ অনেক বেশি তাত্পর্য বহন করে। যদি আমরা বিশ্ব অর্থনীতি, বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব—বৈশ্বিক দক্ষিণের যেসব দেশ অবকাঠামোগত দিক থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে, সেসব দেশের অবকাঠামো খাতকে এগিয়ে নিতে যে বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা পূরণ হতে পারে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে। যদিও উন্নয়নের এই বিষয়টি নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে একধরনের কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক খেলা শুরু হয়েছে!

বিস্ময়ের ব্যাপার, ওপরে উল্লিখিত উদ্যোগগুলো অর্থনৈতিক ও উন্নয়নের স্বার্থে যতটা গুরুত্ব বহন করে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে কৌশলগত, কূটনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক কারণে। বর্তমান বিশ্বে মেরুকরণের যে রাজনীতি চলছে, সেখানে একে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়। অর্থাত্, এসব উদ্যোগ একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনিভাবে এর ফলে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে, আসবে। এমন দাবির কারণ, উদ্যোগগুলো যতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ার কথা, সহযোগিতামূলক হওয়ার কথা, বাস্তবে ততটা পরিলক্ষিত হচ্ছে বা হবে কি না, তাই দেখার বিষয়। শঙ্কার বড় বিষয়, উদ্যোগগুলোকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পথে হাঁটলে তা উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠবে। এই বিচারে, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোকে সঠিকভাবে বিবেচনা করতে হবে, কোন উদ্যোগগুলো তাদের অর্থনীতির জন্য সর্বাধিক সুবিধা বয়ে আনবে, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে?

বর্তমান সময় বিশ্বরাজনীতির জন্য যেহেতু এক কঠিন সময় এবং সব বিষয়ই কূটনীতি ও ভূরাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত, সুতরাং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পা ফেলতে হবে খুব ভেবেচিন্তে। বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতির মধ্যে যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান, তা অনুধাবন করাটাও অত্যন্ত জরুরি

– ড. দেলোয়ার হোসেন: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রেষণে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োজিত।

দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত [লিংক]