Gaza War and Crisis of Humanity

180

ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যে ৮ হাজারেরও বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি হত্যার শিকার হয়েছে। ভয়ংকর নিষ্ঠুর হলেও সত্যি এই যে নিহতদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার হচ্ছে শিশু। তার মধ্যে শিশু হত্যা, নারী হত্যার এক ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছে ইসরাইলের শাসক গোষ্ঠী, ইসরাইলের সেনাবাহিনী। আক্রমণে একদিকে যেমন নিরীহ, সাধারণ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হচ্ছে একই সঙ্গে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে গাজার বিভিন্ন অবকাঠামো, মানুষের বাড়িঘর, আবাসস্থল।

সর্বত্রই এখন হাহাকার বিরাজ করছে। গণমাধ্যমে দেখা যায় কীভাবে জনবসতিকে ধ্বংসস্তূপ করা হচ্ছে, প্রতিদিন নতুন নতুন ধ্বংসস্তূপ তৈরি হচ্ছে। গত ৭ অক্টোবর থেকে অবিরাম বোমাবর্ষণের ফলে এক নজিরবিহীন, ভয়াবহ মানবতার সংকট তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ইসরাইল স্থলযুদ্ধ শুরু করেছে যা ইসরাইলি গণহত্যাকে আরও নিষ্ঠুরতা ও ভয়াবহতায় পরিণত করেছে। বর্তমান শতাব্দীর এই সময়ে এসে এ ধরনের নিষ্ঠুরতা, আক্রমণ, নির্বিচারে মানুষ হত্যা নিঃসন্দেহে কল্পনার বাইরে।

আলজাজিরার খবরে দেখা যায় যে, আলজাজিরার একজন সাংবাদিক যিনি তার পরিবারকে গাজা নগর থেকে ফিলিস্তিনিদের একটি শরণার্থী শিবিরে স্থানান্তর করেছিলেন বাঁচার আশায়। কিন্তু ইসরাইলের বোমা সেখানেও আঘাত হেনেছে। আলজাজিরার সেই সাংবাদিক হারিয়েছে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। এ ধরনের গণহত্যা কীভাবে একটি দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনে ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছে?

অসম যুদ্ধ : এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ইসরাইল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধে একটি পক্ষ সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্র যার পেছনে রয়েছে বিশে^র অন্যতম বৃহৎ শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অন্য পক্ষ একটি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী যাকে আমরা বলছি হামাস। হামাস একটি প্রতিরোধ বাহিনী, একটি সশস্ত্র গ্রুপ যাদের শক্তির সঙ্গে ইসরাইলের শক্তির ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে এবং ফিলিস্তিনিরা সেখানে সরাসরি যুদ্ধ করছে। যুদ্ধ করছে হামাস ও ইসরাইল। স্থানটি হচ্ছে গাজা। এ ধরনের একটি অসম যুদ্ধ কীভাবে এতদিন চালু থাকতে পারে সেটি বিস্ময়কর বাস্তবতা।

আমরা দেখি যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে একদিকে যেমন রাশিয়া ইউক্রেনকে আক্রমণ করেছে, অন্যদিকে ইউক্রেনকে রক্ষা করার জন্য বা ইউক্রেনের সমর্থনে পশ্চিমা বিশ্ব ব্যাপক সহায়তা করছে। ইউক্রেন একটি রাষ্ট্র। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, যুক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি ইসরাইলের মতো একটি আঞ্চলিক সামরিক শক্তি, তারা সমগ্র সক্ষমতা দিয়ে হামলা চালাচ্ছে ২১ লাখ নিরীহ ফিলিস্তিনি জনসাধারণের ওপর, যারা গাজায় বসবাস করছে এবং যাদের সঙ্গে হামাস সশস্ত্র গ্রুপের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্কই নেই। সেই গ্রুপকে নিধনের নামে, আক্রমণের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এ ধরনের ভয়ংকর যুদ্ধ বিশ্বের সামনে, জাতিসংঘের সামনে চলছে যা মানুষের কাছে অত্যন্ত হতাশার, অত্যন্ত লজ্জার।

আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই যুদ্ধটি একদিকে যেমন মুসলিম বিশ্বে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গত ৭৫ বছর ধরে চলমান নিপীড়ন-নির্যাতন উঠে আসছে, অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এমনকি উন্নত দেশের সাধারণ জনগণও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ৭৫ বছর ধরে চলমান নিষ্ঠুরতার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসছে। অসম যুদ্ধ হচ্ছে, বর্বরতা দেখা যাচ্ছে, তার প্রতিবাদ করছে যদিও তারা অনেক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে যা অতীতে আমরা দেখিনি। আমরা যদি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস দেখি, সেখানেও দেখা যায় ফিলিস্তিন ইস্যু সবসময়ই একটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

১৯৪৮, ১৯৫৬ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে যে যুদ্ধ হয়েছে, সেখানে পশ্চিমা দেশগুলোর জনগণের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দেখা গেছে, ব্যাপক আকারে মিছিল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জায়গা থেকেই সেটিকে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু এই সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তারপরও বিভিন্ন দেশের সরকার, মানুষ যারা বিষয়টিকে সংকীর্ণ ধর্মীয় বিবেচনায় না দেখে বরং এটিকে মানবতার বিষয় হিসেবে দেখছেন। তারা ঠিকই প্রতিবাদ করছেন, সত্যকে সামনে নিয়ে আসছেন। আমরা দেখতে পাই ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরাইলের আক্রমণের ভয়াবহতা ও নিষ্ঠুরতা বিপক্ষে কথা বলছে এবং সেটি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে। এই গণহত্যা মানবতার সংকট তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, আয়ারল্যান্ডসহ আরও অনেক দেশ এই গণহত্যা বন্ধের কথা বলছে।

বাস্তবে ইসরাইলের আক্রমণ আরও জোরদার হচ্ছে। অনেকেই বলছেন যুদ্ধটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে, এটি আরও ব্যাপক মাত্রা পেতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পাচ্ছি এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হামাস, হিজবুল্লাহ কিংবা ইসলামিক জিহাদ নিজেদের রক্ষা করা এবং প্রতিরোধের বিষয়টিকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। ইসরাইলের এই আক্রমণের ফলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থনই পরিলক্ষিত হচ্ছে। কারণ ফিলিস্তিনিরা অতীতে যে নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে তার চেয়েও অনেক বেশি নিষ্ঠুরতা শিকার হয়ে আজকের সাধারণ ফিলিস্তিনিরা দিনাতিপাত করছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ইতিমধ্যে ১৪ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং গাজার ৩৫টি হাসপাতালের মধ্যে ১৫টি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সেখানে কোনো জ্বালানি কিংবা সেগুলো পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। ফিলিস্তিনিরা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েও বাঁচতে পারছে না, কোথাও বাঁচতে পারছে না এবং অন্য কোনো দেশেও আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এ রকম একটি খাঁচার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের বন্দি করে হত্যা করা হচ্ছে। মর্মান্তিক হলেও সত্য যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্বিকার হয়ে আছে এবং তাদের কোনো কার্যকর উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এখানে মানবতার নামে যে সাহায্য সেটিও খুবই সীমিত আকারে দেওয়া হচ্ছে। অক্সফামের একটি পরিসংখ্যানে আমরা দেখতে পাই, গাজা অঞ্চলে মানুষের যে পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন তার মাত্র দুই শতাংশ খাদ্য সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অর্থাৎ গাজার ভেতরে যে শুধু বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে তাই নয়, গাজাতে মানুষের জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয়কে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

খাদ্যকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের অনাহারে রাখার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। হামাসের আক্রমণের জবাবে ইসরাইল যে নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করছে সেটিকে বলা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কালেক্টিভ পানিশমেন্ট অর্থাৎ সবাইকে শাস্তি দেওয়া। হামাস তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা থেকে আক্রমণ করেছে। অতীতে আমরা দেখেছি ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের দিনের পর দিন হত্যা করেছে, নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেছে এবং পুরো গাজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে যার ধারাবাহিকতায় এই আক্রমণটি হয়। এই ভয়ংকর প্রবণতা এবং নিষ্ঠুর মানসিকতা অর্থাৎ একটি গোষ্ঠীর আক্রমণের জন্য সবাইকে শাস্তি দেওয়া এটি কোনো সভ্যতার আচরণ হতে পাওে না, গণতান্ত্রিক কিংবা আধুনিক বিশ্ব ব্যবস্থায় এ ধরনের বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। পশ্চিমা বিশ্বে গণতন্ত্রের চর্চা হয়, মানবাধিকারের কথা বলা হয়, এখানে তাদের যে আইনি ব্যবস্থা সেটি অত্যন্ত শক্তিশালী। পৃথিবীর কোথাও কয়েকজনের অপরাধের জন্য সবাইকে শাস্তি দেওয়া ও সাধারণ নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ করার চেয়ে নিষ্ঠুরতা পৃথিবীতে হতে পারে না এবং সেই কাজটিই বর্তমানে চলছে গাজাতে। এটি বন্ধ করার জন্য বৃহৎ শক্তিগুলো এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসছে না।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়া কর্তৃক কয়েকটি প্রস্তাব উপস্থাপিত হলেও সেগুলো ভেটো দেওয়ার কারণে গৃহীত হয়নি কারণ সেখানে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল। ক্রমাগত বোমা বর্ষণে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন, হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, শিশুরা মারা যাচ্ছে, মানুষ তার ভিটে থেকে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, মানুষ তার সম্পদের ধ্বংসযজ্ঞ দেখছে। বিশ্ব রাজনীতির মোড়লদের নিষ্ঠুর আচরণ দেখা যাচ্ছে ফিলিস্তিন ইস্যুতে। এই অবস্থাটি আমাদের বিবেচনা করা উচিত এবং অনতিবিলম্বে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাশের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা উচিত। যুদ্ধ বন্ধ করে দ্রুত একটি শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে এবং এই গণহত্যা ও ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের জন্য ক্ষতিপূরণ ইসরাইলকে দিতে হবে। মানবজাতির বিবেককে জাগ্রত করতে হবে এবং মানবতার সংকট যারা তৈরি করছে অবশ্যই তাদের মূল্য দিতে বাধ্য করতে হবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, এই যুদ্ধ যতই অসম হোক এটি বন্ধ হওয়া জরুরি এবং এই যুদ্ধের মাধ্যমে কখনোই ইসরাইল তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। যুদ্ধের ফলে মানুষের মাঝে আরও বেশি ঘৃণা, আরও বেশি হতাশা, আরও বেশি প্রতিশোধপরায়ণতা তৈরি হয় যার প্রমাণ হামাস ইতিমধ্যে দিয়েছে। হামাসকে দিনের পর দিন কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে, তাদের তাদের নিয়ন্ত্রিত গাজায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, দিনের পর দিন বিভিন্নভাবে নির্যাতন, বৈষম্যের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে, এই অঞ্চলের মানুষকে একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। মনে করা হয়েছিল যে ফিলিস্তিনিরা সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে গেছে, তাদের কোনো আত্মমর্যাদা নেই, তাদের কোনো শক্তি নেই, তাদের মধ্যে প্রতিবাদের লেশমাত্র নেই।

হামাসকে মনে করা হয়েছে একটি পরিত্যক্ত গোষ্ঠী। ইসরাইল দিনের পর দিন পশ্চিম তীর ও গাজায় তাদের বসতি বাড়িয়েছে, তাদের অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং বিভিন্নভাবে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নিপীড়ন, বর্ণবাদী ব্যবস্থা ও সামরিক শক্তির মাধ্যমে ধরে নেওয়া হয়েছিল ফিলিস্তিনিরা আর কখনো জেগে উঠতে পারবে না, হামাস কিংবা এখানকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মৃত্যু ঘটেছে। যাদের স্বাধীনতা হরণ করা হয়, যেই জনগোষ্ঠীকে ক্রমাগত তাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়, যাদের আবাসভূমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় তারা কখনো নিশ্চিহ্ন হতে পারে না, তারা কখনো শক্তিহীন হতে পারে না।

ইসরাইল ও দেশটির সহযোগীরা যে কাজটি করছে তা বড় ধরনের ভুল কারণ অস্ত্রের ব্যবহার ও অসম সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হয়তো মানুষের মৃত্যুর মিছিলের সংখ্যা বাড়বে, মানুষের সম্পদের ধ্বংসযজ্ঞ হবে, সেই মাটি হয়তো তারা দখল করার চেষ্টা করবে কিন্তু তাতেও কিন্তু ইসরাইলের শেষ রক্ষা হবে না কিংবা শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। এই বিষয়টি হয়তো কিছুটা বুঝতে পেরেছিল বলে ১৯৯৩ সালে একটি শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কিন্তু তারপরেও আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কট্টরপন্থিরা ক্রমাগত সামরিক বিজয়ের মাধ্যমেই একমাত্র সমাধানের পথ বেছে নিয়েছে। পুরো পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করার দায়িত্ব ইসরাইল এবং তার মিত্র দেশগুলো ওপর ন্যস্ত।

শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, এটি বিশ্ব বিবেকের জন্য, এটি মানবতার জন্য, এটি গণতন্ত্রের জন্য এবং এটি মানুষের মাঝে সভ্যতার যে ন্যূনতম আবশ্যিকতা আছে সেটিকে রক্ষা করার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আয়োজন করা প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, নিরীহ-অসহায় ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে, তাদের জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে, তাদের যে ধরনের ক্ষতি সাধন করা হয়েছে সেগুলোর প্রতিকার করতে হবে। এই উপলব্ধির জয় হোক।

– ড. দেলোয়ার হোসেন: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রেষণে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োজিত।

প্রকাশিত দৈনিক সময়ের আলো [লিংক]