Myanmar Situation and Rohingya Problem

211

মিয়ানমারে শান্তি ফিরে আসা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্যই জরুরি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের কাছেও তা একটি প্রত্যাশিত বিষয়। মিয়ানমারে চলমান সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ফেরাতে আঞ্চলিক জোট আসিয়ান তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মিয়ানমারকে নিয়ে আসিয়ানে যে বিভক্তি দেখা দিয়েছিল তা দূর করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে আসিয়ান সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আসিয়ান মিয়ানমার সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধানের পক্ষে তাদের মত ব্যক্ত করেছে। তিন মাস আগে ১২ জুলাই আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি জানান, রাজনৈতিক সমাধানই মিয়ানমারে টেকসই শান্তি নিয়ে আসতে পারে। তবে সংকট কাটিয়ে মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে আসিয়ানের পক্ষ থেকে দেওয়া পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব মেনে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী না হওয়ায় তা এখনো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে অব্যাহত সহিংসতা কমাতে সব সদস্য দেশকে দৃঢ়তার সঙ্গে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানানো হয়। আসিয়ান চায় মিয়ানমারের বিবদমান পক্ষের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হোক, যাতে করে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় আসা যায়। মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন বন্ধের জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন আসিয়ান দেশগুলোর সংসদ সদস্যরা। তাদের যুক্তি ছিল, কোনো আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত নয়, কারণ বাহিনীটি মিয়ানমারকে অস্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত করেছে- যা পুরো অঞ্চলকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এরপরও মিয়ানমারের প্রতিবেশী ও আসিয়ানের সদস্য দেশ থাইল্যান্ড দেশটির চলমান সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল। ওই বৈঠকে মিয়ানমার জান্তা, লাওস ও কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুর এতে অংশ নেয়নি। মিয়ানমার সংকট সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আসিয়ানে বিভক্তি দেখা দেওয়াতে জোটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া যায়নি। রয়্যাল থাই সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, জেনারেল চ্যালারম্ফন শ্রীসাওয়াসদি এবং মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং, দুই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বোঝাপড়া এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে ২০ জানুয়ারি বৈঠক করে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে মিয়ানমারের ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত রয়েছে। মিয়ানমারের চলমান সহিংসতায় লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে থাই মিয়ানমার সীমান্তে আশ্রয় নেয়। তবে যেখানে তাদের আইনি সুরক্ষার অভাবে তারা সব সময় নির্বাসনের ভয়ে থাকে। শ্রম, মাদক এবং অস্ত্রের জন্য মানব পাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজন। তা ছাড়া মিয়ানমারে থাইল্যান্ডের ১৫৪টি প্রকল্পে মোট ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি করপোরেট বিনিয়োগ রয়েছে, যা মিয়ানমারের সব বিদেশি বিনিয়োগের ১২.৫% এবং বিনিয়োগের দিক থেকে থাইল্যান্ড তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

জান্তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ে জানান, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আসিয়ানের ঐকমত্যের পাঁচটি পয়েন্টের মধ্যে তিনটিতে তার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্রীভূত করছে। তারা দেশে সহিংসতা বন্ধ করা, সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ শুরু করা এবং মিয়ানমারের জনগণকে মানবিক সহায়তা প্রদান করার বিষয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আসিয়ান বা নন-আসিয়ান ফ্রেমওয়ার্কের ভিত্তিতে, দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় যে কোনো কৌশলকে স্বাগত জানায় আঞ্চলিক জোট আসিয়ান। ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) এবং জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের (ইএও) সঙ্গে মিয়ানমারের অন্যান্য বিরোধী জোটকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং দেখাতে হবে যে তাদের জাতিকে নেতৃত্ব ও রক্ষা করার শক্তি ও সামর্থ্য রয়েছে।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই ব্যাপক নাগরিক বিক্ষোভের পাশাপাশি জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সশস্ত্র প্রতিরোধের সূত্রপাত হয়। জান্তা সরকার নৃশংস প্রতিক্রিয়ায় শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে, কয়েক হাজার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। ১৫ জুলাই প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক দফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, এর মধ্যে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ১৬ লাখ মানুষ এ দুর্ভোগের শিকার, ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। মিয়ানমার জান্তার নির্মম নির্যাতনে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের এ হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সামরিক জান্তা ৩ হাজার ৮০০ বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও প্রায় ২০ হাজার মানুষকে কারারুদ্ধ করেছে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা প্রায় ৭০ হাজার অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। এ সশস্ত্র সংঘাতের ফলে দেশের লাখ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতা ও নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে, এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য কমে যাওয়ায় অর্থনীতি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মিয়ানমারের মানুষ এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। মিয়ানমারে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ইনডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মেকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইএমএম) নামে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তাদের প্রতিবেদনে পুরো গ্রাম পুড়িয়ে ফেলা, বেসামরিক বাড়িঘরের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে বোমা হামলা এবং বেসামরিক ও আটক যোদ্ধাদের গণহত্যা চালানো হচ্ছে বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দেশের বৈধ সরকার হিসেবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এনইউজি এখনো মিয়ানমারের ভিতরে ও বাইরে গণতন্ত্রের জন্য তাদের সংগ্রাম চলমান রেখেছে। প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের মানুষ জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়কে উপেক্ষা করে সামরিক শাসনের অবসান চাচ্ছে। ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরও মিয়ানমারের অস্ত্রের জোগান বন্ধ করা যায়নি। ক্ষমতা দখল করার পর জান্তা সরকার ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিয়ানমারের জনগণের এ দুর্দশা থেকে অনেক দেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও প্রতিষ্ঠান অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে লাভবান হচ্ছে। মিয়ানমারের জান্তা সরকার এ বছরের আগস্টে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত করে চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে। জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বৈঠকে জানিয়েছেন, অভ্যুত্থানবিরোধী প্রতিরোধ শক্তির দ্বারা চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারে সন্ত্রাসবাদের ঘটনা হ্রাস পেয়েছে। তবে দেশের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর এ পর্যন্ত চারবার জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট যে, দেশটির জনগণ এবং অধিকাংশ এলাকার ওপর সামরিক বাহিনীর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন এনএলডিকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না করায় রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়, এর ফলে দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর ফলে মিয়ানমার সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতায় নিমজ্জিত হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।

২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চিকে বন্দি করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত ১৯ অপরাধের বিচার শেষে সু চিকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ফৌজদারি মামলায় ক্ষমা ঘোষণা করে ছয় বছরের কারাদণ্ডের মেয়াদ কমানো হয়। ২৮ জুলাই সু চিকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে সরকারি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সু চির শাসনামলে ২০১৭ সালে, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়নের ফলে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিতর্কিত ও সমালোচিত হলেও গণতান্ত্রিক মিয়ানমার প্রতিষ্ঠায় তার প্রচেষ্টার বিষয়ে সবাই ঐকমত্য পোষণ করে। ২৭ মে ও ৪ জুন সু চি এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে দেশের সশস্ত্র সংঘাত, জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শান্তি স্থাপনের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বর্তমান জান্তা সরকার সু চির এ প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধ করতে চায়।

মিয়ানমারের অর্থনীতিতে আসিয়ান দেশগুলোর অবদানের কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আসিয়ানকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। মিয়ানমারের বিরোধী দলগুলোকে সংঘবদ্ধ হয়ে দেশ পরিচালনায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। স্থানীয় সরকার কাঠামো, সুশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন, সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে নিরস্ত্র সহযোগিতা এবং এনইউজি ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপ আয়োজন তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। যেসব দেশ মিয়ানমারকে অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে চলমান সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করে দমন-পীড়নে সহায়তা করছে তাদের নিজ অবস্থান থেকে সরে এসে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়তা করতে হবে। বিরোধীদের মধ্যে জাতিগত সহিংসতা বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে তা চালিয়ে যেতে হবে। জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ ও দাতা সংস্থাগুলো বিশ্বাস করে যে, মিয়ানমারে শান্তি ও গণতন্ত্র ফিরে এলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের শান্তি, উন্নতি, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা আশা করে। রোহিঙ্গা সমস্যার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগ উভয় দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমারে আঞ্চলিক ফোরাম ও দেশগুলো শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারলে এ অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক সক্ষমতার স্বীকৃতির পাশাপাশি তা হবে অভিপ্রেত এক বিশাল অর্জন।

– ব্রিঃ জেঃ (অবঃ) হাসান মোঃ শামসুদ্দীন, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এম ফিল, মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা বিষয়ক গবেষক (সিবিজিএ)।

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত [লিংক]