Regional Unity in the Middle East

282

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ঘটে যাচ্ছে নতুন নতুন ঘটনা ও পরিবর্তন। এই পরিবর্তন একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিশ্ব রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে এর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপকভাবে চিন্তিত, যেখানে অন্য একটি বিশ্বরাজনীতির মঞ্চ যেটিকে আমরা বলি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, সেখানেও তারা অনেক সক্রিয়, পাশাপাশি আমরা জানি যে একদিকে পূর্ব এশিয়ায় কোরিয়া উপদ্বীপ আগের চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত অবস্থায় আছে এবং সেখানে তাইওয়ান প্রণালির যে সংকট অর্থাৎ তাইওয়ানকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মুখোমুখি অবস্থান- এই ধরনের শ্বাসরুদ্ধকর বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য বলা যায় যে অনেকটাই উপেক্ষিত অবস্থায়। যদি আমরা আশি ও নব্বইয়ের দশকের, এমনকি দুই হাজার সালের শুরুর দিকে ফিরে তাকাই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও পরিস্থিতি সব সময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। যদিও বর্তমানের প্রায় অধিকাংশ ঘটনাই তখনকার যুদ্ধ, বহিঃশক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ ও বৈরিতার ফল। যার দরুন এ অঞ্চলটি অনেকটা গুরুত্ব হারিয়েছিল।

ইরান-ইরাক যুদ্ধ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিভিন্ন সময়ে সামরিক হস্তক্ষেপ যেমন উপসাগরীয় যুদ্ধ (প্রথম ও দ্বিতীয়), সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভেতর যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো সামরিক দিক থেকে ব্যাপকভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেন আক্রমণ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের যে বিস্তার, তার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বড় ধরনের টার্গেট হিসেবে বিবেচনা করে। পাশাপাশি ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ, সাদ্দাম হোসেনের পতন এবং তাকে হত্যা, পরবর্তী সময়ে সিরিয়ার ভেতর যে ধরনের গৃহযুদ্ধ সূত্রপাত হয়েছে, গাদ্দাফিকে উৎখাত করে লিবিয়াকে একটি স্থায়ী সংকটের মধ্যে পর্যবসিত হয়েছে, আফগানিস্তানে ২০০১ সাল থেকে মার্কিন ও পশ্চিমা সৈন্যদের অবস্থান এবং ২০ বছর পর তা প্রত্যাহার ইত্যাদি ঘটনা এই অঞ্চলে পশ্চিমা বিশ্বের ব্যাপক আধিপত্যকেই নির্দেশ করে।

পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্ভাগ্যজনক অমীমাংসিত ঘটনা হলো ফিলিস্তিন ইস্যু। ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়নি আজও। ফিলিস্তিনি জনগণকে উৎখাতের মাধ্যমে ইসরায়েল নামক যে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রটি শুধু টিকেই থাকেনি, এটি এখন বরং ফিলিস্তিনিদের তাদের জন্মভূমি থেকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করার সবকিছু করছে। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সামাধান, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রস্তাব সেটিও বাস্তবায়ন করা যায়নি। এমনকি ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার কর্তৃপক্ষকে সঠিকভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে দেয়া হয়নি। ইসরায়েলের প্রতিবেশী রাষ্ট্র সিরিয়া কিংবা লেবানন পর্যন্ত ইসরায়েলি শাসন ও নির্যাতনে জর্জরিত। এখনো দেখা যায় ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলের লড়াই, যেখানে রক্তক্ষয় হচ্ছে ক্রমাগত। ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য বিক্ষোভে লিপ্ত, কিন্তু দেখা মিলছে না শান্তির। এখানে ফিরে আসেনি শান্তি, অধিকার ফিরে পায়নি ফিলিস্তিনিরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে নিরাপত্তা পরিষদে এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহীত হয়নি, যদিও সাধারণ পরিষদ এই প্রস্তাব বহু আগেই গ্রহণ করেছে। শুধু নিরাপত্তা পরিষদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার কারণে পূর্ণ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য জর্জরিত হচ্ছে আরও কিছু সমস্যায়। ইরান ও সৌদি আরবের মাঝে সম্পর্কের অবনতি, এমনকি একপর্যায় ২০১৬ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। বর্তমান সময়ে যখন বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্র পরিবর্তন হচ্ছে, একটি ভয়াবহ সর্বগ্রাসী যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব ও রাশিয়া-ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে, অন্যদিকে যখন তাইওয়ান ও কোরিয়ান উপদ্বীপে অস্থিরতা ও সংকট বিরাজ করছে, যা আবার দেখা যাচ্ছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও- এ রকম এক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন হাওয়া দৃশ্যমান।

এই প্রেক্ষাপটে দুটি ঘটনা, দুটি পরিবর্তন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান ও সৌদি আরব অতিসম্প্রতি তাদের মাঝে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। গত ১০ মার্চ চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পাঁচ দিন ধরে বৈঠক করা ইরান ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের জন্য একটি চুক্তির ঘোষণা দেন। ইরান ও সৌদি আরবের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকরা একাধিকবার বৈঠক করেছেন, যেখানে শুধু ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সংঘটিত হয় পাঁচ দফা আলোচনা এবং এরই ফলে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়ে কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলে একে অপরকে সাহায্যের আশ্বাস তারা দিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে সৌদি যুবরাজ সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ সংস্কার সাধনে হাত দিয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তার দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে চারটি নতুন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করেছেন। আরও নানা ধরনের সংস্কার কার্যক্রমের জন্য আলোচিত দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি ভয়াবহ সংকট হচ্ছ ইয়েমেন যুদ্ধ। একটি অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে এই যুদ্ধ। ইউনিসেফের মতে, ইয়েমেন বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে ১১ মিলিয়নেরও বেশি শিশুর এক বা একাধিক ধরনের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ২০২৩ সালে ২ কোটি ১৬ লাখ মানুষের কোনো না কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, কেননা দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ খাবার জোগাড় করতে এবং মৌলিক সেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছে। ইউএনডিপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১৩ লাখে পৌঁছাতে পারে। অজস্র ইয়েমেনির প্রাণ গেলেও বিশ্বশক্তিগুলোর কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। কোনো ধরনের কার্যকর ভূমিকার ছিল অভাব। এমন এক আত্মঘাতী যুদ্ধে লিপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইরান-সৌদি সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে অনেকে এই সংকটের নিরসন দেখছেন। এই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন যেমন এক বিস্ময়কর কূটনৈতিক পরিবর্তন, এর পেছনে ভূমিকা রাখা দেশটিও বেশ গুরুত্বের দাবিদার। চীন প্রথমবারের মতো কোনো আঞ্চলিক সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখল, যেখানে দুটি শক্তি এই অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী। চীনের মধ্যস্থতায় এই সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হওয়ায় এটিকে বর্তমান বিশ্বে চীনের এক নতুন কূটনৈতিক ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

যে সিরিয়া একসময়ে একটি আঞ্চলিক শক্তি ছিল, যে দেশটি ছিল মুসলিম সভ্যতার অন্যতম ধারক, এক দশক ধরে গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত- এটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বশক্তিগুলোর নানা কৌশল অবলম্বন পরিলক্ষিত হয়েছে তাদের ভূরাজনৈতিক কার্যক্রমের রেশ ধরে। আরব লিগ থেকে ১১ বছর আগে সিরিয়াকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এবারের সম্মেলনে সিরিয়াকে আবার আমন্ত্রণ জানানো হয়, ফিরিয়ে দেয়া হয় তার সদস্যপদ। গত মে মাসে সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর জেদ্দায় আরব লিগের সদস্য দেশগুলো এক ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়, যেখানে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২২টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাশার আল-আসাদের সঙ্গে বৈঠক হয় আরব লিগের নেতাদের। সৌদি আরবের এক বিশেষ ভূমিকা লক্ষ করা যায় সিরিয়াকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে। আরব লিগকে আরও সুসংহত করা ও সিরিয়াকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও স্থিতিশীল করার এক প্রয়াস লক্ষ করা গেছে। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক এই ঘটনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশ্বরাজনীতিতে সিরিয়াকে দেখা হয় রাশিয়ার মিত্র দেশ হিসেবে।

সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তি দুটি পরিবর্তনের দিকে সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। একটি হলো আঞ্চলিক শক্তিগুলো তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাচ্ছে, আরোপিত বা বহিঃশক্তির দ্বারা সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেরাই উদ্যোগী হচ্ছে, যার ফলে দেখা যাচ্ছে এই ধরনের গুণগত পরিবর্তন। উল্লেখ্য, আরব লিগের সদস্যরা জেদ্দা ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে, যা আরব বিশ্ব এবং এর বাইরে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনে আরব লিগের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার দ্বন্দ্ব। এটি চলে আসছে সেই স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার মার্কিন-সোভিয়েত টানাপোড়েন থেকেই। এই প্রভাবের ভেতরেই গত কয়েক দশকের মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সিরিয়া বা লিবিয়ার ভেতরকার বাস্তবতা, ইয়েমেন যুদ্ধসহ অন্য সব ক্ষেত্রেই প্রচ্ছন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার এক প্রভাব বিদ্যমান। এই প্রথম চীনের এক স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব লক্ষ করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ শক্তির রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রার জন্ম দিয়েছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতা দ্বারা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে। এর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বাস্তবতা একটি পরিবর্তিত অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে, যা দৃশ্যত ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময়।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের মধ্যকার অনৈক্য দূর করতে পারলে তাদের অভ্যন্তরীণ সংকট দ্রুত নিরসন হবে। বৈশ্বিক মেরুকরণকে পাশ কাটিয়ে আঞ্চলিক ঐক্য ও অখণ্ডতাকে মাথায় রাখলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধান সম্ভব। নিজেদের মধ্যে বৈরিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিনে দিনে মধ্যপ্রাচ্যকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সেদিক বিবেচনায় এই আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানও সম্ভব। ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দেয়া সম্ভব। আরও সম্ভব ইয়েমেন যুদ্ধ দ্রুত নিষ্পত্তি বা নিরসন। বিশেষ করে ইরাক, লিবিয়া, এমনকি সিরিয়ায় যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা থেকে পরিত্রাণও সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্ত মধ্য এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানের গুণগত পরিবর্তনও আনা সম্ভব। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর তাদের নিজেদের যে ভূমিকা বা নেতৃত্বের যে অবস্থান তাকে আরও শক্তিশালী করা এবং সেটিকে সংকীর্ণ স্বার্থের বাইরে গিয়ে যদি মূল্যায়ন করা হয়, তবে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে এক নতুন বার্তা দেয়া সম্ভব। ভূরাজনৈতিক দিক থেকে ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ। যতই অন্যান্য অঞ্চলের গুরুত্ব সামনে আসুক না কেন, মধ্যপ্রাচ্য অনন্য অবস্থানে থাকবে তার ভৌগোলিক, কৌশলগত, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিশিষ্টতার কারণে। এই অঞ্চলের বর্তমান সংকট, অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ইত্যাদি বিষয় থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন ও প্রাণবন্ত মধ্যপ্রাচ্য সামনে এগিয়ে যাবে- এই আশা আমরা ব্যক্ত করতেই পারি।

– ড. দেলোয়ার হোসেন: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রেষণে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োজিত।

দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত [লিংক]