Lu’s Visit and Bangladesh-US Relations

174

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। দেশ দুটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা গ্রহণ করছে। ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন দক্ষিণ ও মধ্য এশীয়বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। সফরে বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন। গত ১১ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পদক্ষেপের বিষয়েও কথা বলবেন এবং শ্রম ও মানবাধিকার বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।

কিছুদিন আগে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র ডিরেক্টর রিয়ার অ্যাডমিরাল আইলেন লাউবাচার ঢাকা সফর করেছেন। ডোনাল্ড লু হবেন এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা যিনি বাংলাদেশ সফর করবেন। এই সফরটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব জোরদার করার আরেকটি সুযোগ বলা যেতে পারে।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে উভয় দেশই একটি অত্যন্ত দৃঢ় অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ব খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং উভয় দেশই বহুমাত্রিক বিষয়গুলোর মাধ্যমে আরও দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার সময় থেকে স্পষ্টভাবে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এই সম্পর্কটি মূলত উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বাণিজ্যনির্ভর। কালের আবর্তে নিরাপত্তা এবং কৌশলগত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি (টিকফা) সই করে ২০১৩ সালে। এ ছাড়া ২০১২ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশ দুটি নিরাপত্তা সংলাপেরও আয়োজন করছে। সংলাপের শুরু থেকেই সম্পর্ক মোড় নেয় এক নতুন বাস্তবতায়, সেখানে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নতুন মাত্রা গ্রহণ করে।

তবে গত এক দশকে বাংলাদেশ ব্যাপক অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। স্পেক্টেটর ইনডেক্সে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে ২৬টি দেশের একটি গ্রুপের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের জিডিপির পরিমাণ বিশ্ব অর্থনীতির শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে চীন ও ভারতের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস সংঘটিত হয়েছে বৃহৎ শক্তিগুলোর হাত ধরেই।

তবে এটি মিত্র এবং বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনও করেছে। নতুন বাস্তবতায়, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্ব গভীরভাবে অনুভব করেছে। তবে সবকিছুকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এগিয়েছে বেশ অনেক দূর, সম্পর্কের ভবিষ্যৎ তাই আরও উষ্ণ ও ব্যাপক হবে- এমনটা বলা বাহুল্য হবে না।

উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বিশেষ করে ৮০ ও ৯০-এর দশকে বৈদেশিক সহায়তা প্রদান করেছে। পরবর্তী সময় বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তার নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় মার্কিন সহায়তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য পরিবর্তিত হয়েছে, বিশেষ করে যেহেতু নিরাপত্তা কাঠামোটি আশির দশকের মতো নয়। বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর জোর দিতে বাধ্য করেছে। এটি দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত কৌশলগত সংলাপের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, যেখানে তাদের সাধারণ নিরাপত্তা হুমকি নিয়মিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। গভীর সহযোগিতাও রয়েছে সন্ত্রাস দমনে।

২০০১ সালে যখন ৯/১১ হামলার ঘটনা ঘটে, তখন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানায় এবং বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়। উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ওপর জোর দিয়েছিল। কেননা কোনো সীমানা দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না সন্ত্রাসবাদকে। প্রকৃতপক্ষে, ২০১০ সালের দশক এবং তার পরের দশকে পুরো বিশ্ব সন্ত্রাসী হামলার একটি উত্থানের চিত্র দেখেছে। সুতরাং সন্ত্রাস দমন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশের তাৎপর্য এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ মনোযোগ সহযোগিতার জন্য একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমানা বিরোধ সমাধান করেছে। এটি বাংলাদেশকে তার নৌ-সামর্থ্য ও সুনীল অর্থনীতির দিকে মনোনিবেশ করার জন্য একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দিচ্ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র নৌ-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে (আইএমইটি) ৭.২৯ মিলিয়ন ডলার এবং বৈদেশিক সামরিক অর্থায়নে (এফএমএফ) ৬৬.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পেয়েছে। দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রমের মোট ১০ মিলিয়ন ডলার এবং আঞ্চলিক এফএমএফ মোট ৫৬.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে রয়েছে বঙ্গোপসাগর ইনিশিয়েটিভ দ্বারা প্রদত্ত এফএমএফ সহায়তা। সুতরাং সামরিক সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ ২০১৩ সাল থেকে মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের দাবি করে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ এই সুবিধা পায়নি, যা যুক্তরাষ্ট্র ৪৬টি দেশকে প্রদান করে থাকে। এ ছাড়া বাংলাদেশও ২০১৩ সাল থেকে জিএসপি সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যা মার্কিন সরকার স্থগিত করে রেখেছে। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে একে অপরকে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে সহযোগিতার হাত আরও সুদৃঢ় করতে পারে। তাই গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক এবং বিশেষজ্ঞরা মাঝে মাঝে বাংলাদেশ সফর করেছেন। আর এখন ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র ডিরেক্টর রিয়ার অ্যাডমিরাল আইলেন লাউবাকার চার দিনের সফরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসেন। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস), উন্নয়ন সহযোগিতা, সামুদ্রিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা- গত ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার বিষয় ছিল। বিশেষ করে মানবিক সহায়তা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রগুলো পারস্পরিক স্বার্থ ও গুরুত্বের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দুই পক্ষ পর্যালোচনা করেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করেছে, যা ক্রমবর্ধমান বন্ধনের পরিপূরক হতে পারে। এগুলো হলো- সন্ত্রাস দমন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থা র‌্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা, ইউক্রেন যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের দৃঢ় মনোভাব। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়গুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যাবর্তন সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেন বা রাশিয়া ও পাশ্চাত্যের মধ্যকার যুদ্ধ নয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। সুতরাং যুদ্ধের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সমর্থন করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের দায়িত্ব রয়েছে। তা ছাড়া রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমারা যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

মানবাধিকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মতো কিছু সামাজিক, রাজনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে রয়েছে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন মতামত। এই বিষয়গুলো আলোচনায় নতুন নয়, তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব কাম্য নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের জন্য এ ধরনের বিষয় উল্লেখ করে থাকে। এটি একটি নৈমিত্তিক বিষয়। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায়।

এটি সহজেই অনুমেয় যে, শুধু বাংলাদেশই নয়, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য একটি ‘অসাধারণ গল্প’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন সামনের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তার প্রশাসন দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ। তার মতে, বাংলাদেশ সামুদ্রিক, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা, শরণার্থীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার প্রধানত কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে, যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে নিঃস্বার্থতার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দানকারী সম্প্রদায়গুলোর পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বা বিষয়কে কেন্দ্র করে এই সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের আরও গভীরতা প্রতিফলিত হবে আগামী দিনগুলোতে। এটি স্পষ্ট যে, সম্পর্কের রেখাটি ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে এবং এভাবে এটি সর্বদা প্রসারিত ও ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে বজায় থাকবে।

– ড. দেলোয়ার হোসেন: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রেষণে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োজিত।

দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত [লিংক]