Politics of Human Rights and Bangladesh

486

মানবাধিকার একটি বহুল আলোচিত বিষয়। মানুষের আইনগত অধিকার, নৈতিক অধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকারের সমষ্টি হলো মানবাধিকার। অন্যভাবে বললে, সকল আইনগত অধিকার, নৈতিক অধিকার ও মৌলিক অধিকারই মানবাধিকার। মানবাধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। আজ ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার পর ১৯৫০ সালে জাতিসংঘ এই দিনটিকে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশও প্রতিবছর এই দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে।

প্রতিবছর নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়ে থাকলেও এবার এই দিবসটিকে অধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এবার দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে এমন একটি প্রেক্ষাপটে, যখন কিনা বিশ্ব একটি ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অতিমারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, শরণার্থী-সংকট, উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান, জনরঞ্জনবাদের আবির্ভাব এবং জাতিগত বিভেদের দরুন বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মানবাধিকার ধারণাটি সর্বজনীন, জন্মগত ও মৌলিক অধিকার-সংশ্লিষ্ট হলেও এটিকে ঘিরে রাজনীতি, কূটনীতি ও বিতর্ক লক্ষণীয়। মানবাধিকারকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার এবং কূটনীতির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরোনো হলেও সম্প্রতি এটিকে ঘিরে বিতর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৪০-এর দশকে স্নায়ু যুদ্ধের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রাজনীতির একটি প্রধান ইস্যু হিসেবে বিকশিত হয়েছিল। নব্বইয়ের দশকে স্নায়ু যুদ্ধের অবসান হয়। বর্তমান বিশ্বে বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুনভাবে ফিরে আসার কারণে মানবাধিকার ইস্যুটি পররাষ্ট্রনীতিতে নতুনভাবে এর কৌশলগত গুরুত্ব ফিরে পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের ফলে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান দেশগুলো মানবাধিকারকে ঘিরে রাজনীতি ও কৌশলের সম্মুখীন হচ্ছে। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলো তাদের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য এটিকে কাজে লাগাচ্ছে। বাংলাদেশকে মানবাধিকার ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা এই কূটনীতি ও রাজনীতির অংশ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে তুলে ধরার মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায় এবং দেশ ও দেশের বাইরের একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের কায়েমি স্বার্থ অর্জনের চেষ্টা করছে।

মানবাধিকার বিষয়টিকে ঘিরে ধারণাগত অস্পষ্টতা, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং কূটনৈতিক কৌশল ও স্বার্থের ফলে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান দেশগুলো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রথমত; মানবাধিকারের সঙ্গে সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সম্পর্ক থাকায় এটিকে স্থান ও প্রেক্ষাপটভেদে অনেকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা ও উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। ফলে উন্নয়নশীল বিশ্বের একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব মানবাধিকারের বিষয়ে দৃশ্যত যে দেশগুলো সরব, তারা নিজেরাই বর্ণবাদ থেকে শুরু করে ও বিচারবহির্ভূত হত্যাক্যাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী এসব দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। বরং একটি উপনিবেশোত্তর জাতি হিসেবে বাংলাদেশ তার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানবাধিকার বিষয়ে সহনশীলতা দেখায় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এমনও প্রমাণ আছে, যেসব দেশ মানবাধিকার বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে, তাদের দেশকে প্রতিবেদনের বাইরে রেখে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

মানবাধিকার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মানবাধিকারের বিভিন্ন নির্দেশকে বাংলাদেশ অন্য অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে আছে। বিশ্ব জনসংখ্যা পর্যালোচনা রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২১ সালে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ফলে মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে যথাক্রমে ব্রাজিল (৪৯,৪২৬ জন), যুক্তরাষ্ট্র (৩৭,০৩৮ জন) এবং মেক্সিকোতে (২২,১১৬ জন)। এই প্রতিবেদন অনুসারে নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে প্রথম তিনটি দেশ হলো যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা। উভয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ভালো।

দ্বিতীয়ত; দ্ব্যর্থহীনভাবে মানবাধিকার তার সর্বজনীনতা এবং বিশেষত্বের প্রশ্নে একটি বড় বিতর্ক তৈরি করে। এই সর্বজনীনতা ও বিশেষত্ব ঘিরে রাজনীতি ও কূটনীতি লক্ষণীয়। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের নীতি ও আদর্শগুলো প্রধানত পশ্চিমা সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে নেয়া। কিন্তু মূল্যবোধ, সমাজ ও সংস্কৃতি এবং নীতির ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে বৈচিত্র্যতা রয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া বা লাতিন আমেরিকার মূল্যবোধ, সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পশ্চিমা মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির পার্থক্য রয়েছে। অথচ মানবাধিকারের ঘোষণাপত্রকে সর্বজনীন বলা হলেও এর নীতিগুলো বিশেষ একটি সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে নেয়া। এটি জাতি-রাষ্ট্রগুলোর ব্যাপক বৈচিত্র্যময় সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা সত্ত্বেও মানুষের কিছু অধিকারকে সর্বজনীন করার পেছনের যুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

মানবাধিকার প্রসঙ্গে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ ও লি কুয়ান ইউর মন্তব্য উল্লেখ করা যেতে পারে। মাহাথির মোহাম্মদ মানবাধিকারকে সাংস্কৃতিকভাবে আপেক্ষিক বলে দাবি করে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রটি পর্যালোচনার প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ঘোষণাপত্রটি এশীয় সমাজের ওপর একটি পশ্চিমা আরোপ, যা এশীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করেছে এবং ফলপ্রসূতে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারা উভয়েই প্রধান এশীয় মূল্যবোধকে এই বিশ্বাস হিসেবে বর্ণনা করেন যে সমাজের প্রতি বাধ্যবাধকতা এবং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের অধিকারগুলো ব্যক্তির অধিকারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত; মানবাধিকার ইস্যুতে যথেষ্ট বিতর্ক এবং বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশ এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বে কূটনীতির একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিশেষত স্নায়ু যুদ্ধের যুগে দুই পরাশক্তির মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্ব মানবাধিকার এবং উদার গণতন্ত্রের বিষয়গুলোকে বিশ্বব্যাপী বিতর্কের সামনে নিয়ে আসে। চতুর্থত; যেহেতু মানবাধিকারের ইস্যুটি স্বাভাবিকভাবেই অভ্যন্তরীণ প্রকৃতির, তাই এটি শক্তিশালী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অনেক দেশকে বড় ধরনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এটি শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারই না, বরং কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।

পঞ্চমত; আধুনিক বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের ফলে ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানো এবং তথ্য ম্যানিপুলেশনের প্রবণতা বহুলভাবে প্রচলিত হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে মানবাধিকারের মতো সংবেদনশীল ও সর্বজনীন বিষয়ে ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে দেশ ও বিদেশের একটি স্বার্থান্বেষী মহল চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেক সময় শক্তিশালী রাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী ও দুর্বল রাষ্ট্রকে চাপে রাখার জন্য বা সেখানে তার স্বার্থ অর্জনের জন্য এটিকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।

এহেন বাস্তবতায়ও বাংলাদেশ মানবাধিকার রক্ষা এবং উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মানবাধিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ তার সাংস্কৃতিক চর্চা, আইনগত অনুশীলন এবং মানবিক জীবনবোধের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষা এবং বিকাশে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই মানবাধিকারের ব্যাপারে আমরা সোচ্চার। বাংলাদেশের মানবাধিকার সমর্থনের ইতিহাস রয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনের বহু আগে থেকেই বাঙালি জাতি অধিকার রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছে। সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তার বাস্তব উদাহরণ। বাংলাদেশের মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান লক্ষ্য ছিল অন্যায়, অবিচার ও শোষণ থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্তির মাধ্যমে মানবাধিকারের বিকাশ সাধন এবং বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করা। মানবাধিকারের দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল অসাধারণ। তিনি ছিলেন মানবাধিকারের প্রবক্তা ও অনুশীলনকারী। রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দাবিতে তিনি সর্বদা বাঙালি জনগণের, বিশেষভাবে কৃষক ও শ্রমিকদের মতো প্রান্তিক জনগণের অধিকার, তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আন্দোলনের স্বাধীনতা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপনিবেশিকতা থেকে মুক্তির কথা চিন্তা করেছিলেন।

মানবাধিকার রক্ষা, এর চর্চা ও বিকাশ আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে শুরু করে উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিরোধ এবং পরবর্তী সময়ে আমাদের স্বাধীনতামাধ্যমে মুক্তি সংগ্রাম প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার নির্মোঘ দাবি ও আন্দোলন। পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকারকে মৌলিক অধিকারের মর্যাদা দেয়া এবং মুক্তি ও গণতন্ত্রকে জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ প্রমাণ করে বাংলাদেশ শুধু মানবাধিকারের প্রবক্তাই না, মানবাধিকার রক্ষক, প্রচারক। বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীর অবদান, নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের সফলতা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বে আমাদের রোল মডেলের স্বীকৃতি বলে দেয় মানবাধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা ও প্রচেষ্টা।

বিশেষভাবে গত ৫০ বছরে আইনগত সংস্কার, প্রশাসনিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইন ও চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার এবং প্রতিপালন প্রমাণ করে মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়ন বাঙালি জাতির সহজাত সংস্কৃতি। মানবাধিকার রক্ষা ও বিকাশে বাংলাদেশ আইনগত পদক্ষেপ ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সাধনসহ অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মানবাধিকার রক্ষায় ২০০৮ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা, তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা, শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং ১০টি শ্রম আদালত স্থাপন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়ন, ২০১৩ সালে হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতিসহ বাংলাদেশ অনেক আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন করেছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচনে বাংলাদেশ পঞ্চমবারের মতো সাফল্যের সঙ্গে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে। এর আগে বাংলাদেশ ২০০৬, ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালেও জয়লাভ করে সদস্য নির্বাচিত হয়। এটি মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সুতরাং ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ মানবাধিকারের রক্ষক ও চর্চাকারী।

পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার ঘিরে রাজনীতি ব্যাপক হয়ে উঠেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় এটি অতিমাত্রায় হয়েছে, যা মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার উদ্দেশ্য এবং চেতনার পরিপন্থী। তাই জন্মগত ও সর্বজনীন এই অধিকার নিয়ে রাজনীতি ভুলে বিশ্বের সব দেশের উচিত মানবাধিকার উন্নয়ন ও রক্ষায় কাজ করা। মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে বাংলাদেশ কাজ করেছে, করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখবে।

– ড. দেলোয়ার হোসেন: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রেষণে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োজিত।

দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত [লিংক]