CBGA-Bhorer Kagoj Roundtable Held Youth Perspective on Recent Instability in Bangladesh-Myanmar Borderlands and Implications for Rohingya Repatriation and Responses

943

রোহিঙ্গাদের যেখানে নিজভূমে ফিরে যাওয়ার কথা চলছিল সেখানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির কারণে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় চারবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঢাকা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোর পর নেপিডো বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে উল্টো সেদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দায়ভার আরসা নামে একটি সংগঠনের ওপর চাপিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। আর একে ভূরাজনৈতিক খেলার অংশ হিসেবে দেখে সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই সংকটের গোড়া কোথায়, সমাধান কোথায়?

শনিবার দি কেয়ারএফ সেন্টার ফর বাংলাদেশ গ্লোবাল এফেয়ার্স (সিবিজিএ) ও ভোরের কাগজের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে তরুণদের ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। এদিন বিকালে ভোরের কাগজ মিলনায়তনে আয়োজিত ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিবিজিএ’র চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন তরুণ শিক্ষক ও গবেষক আলোচনায় অংশ নেন। তারা হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরীফ হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফজালুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু সুফিয়ান (সম্রাট), বিইউপি’র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক উশ্রী বড়ুয়া, সিবিজিএ’র গবেষক মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ রাইয়ান আমীর।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান মো. শামসুদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে কক্সবাজারসহ পুরো বাংলাদেশ হুমকির সম্মুখীন। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান ঘটনার কারণে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। এই অস্থিরতার দায় মিয়ানমার স্বীকার করছে না। এরকম পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়েছে। এই সমস্যা অচিরেই শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলবে। দেখতে হবে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মানবিক সহায়তা যেন বন্ধ না হয়। কারণ মানবিক সহায়তা বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হবে।

এ সময় ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কোভিডের ধাক্কা আগে থেকেই ছিল, এখন নতুন করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যোগ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় আগের মতো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে সেই জনগোষ্ঠীর জীবনমান অব্যাহত রাখা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা না গেলে নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে। এতে আরো সমস্যা বাড়বে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরীফ হাসান আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০৮ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত এবং ৬৪ কিলোমিটার জলসীমান্ত রয়েছে। তবু দেশটির সঙ্গে আমাদের সরাসরি যোগযোগ কম। এরকম পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা নিয়ে আগে থেকে সংকট আছে। এর পেছনে ভৌগলিক কারণ আছে জানিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে এনে তিনি বলেন, দুই দেশই দুই কৌশলে এখানে এগুচ্ছে। এর ফলে বর্ডারে অস্থিরতা বাড়ছে। এতে বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী অবস্থান চাপে পড়বে। সংকট আরো ঘনীভূত হলে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রেবেশ ঠেকাতে কষ্ট হবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসনও চ্যালেঞ্জে পড়বে। তিনি সংকট নিরসনে বিমসটেককে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফজালুর রহমান বলেন, চীনের মধ্যস্থতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য তড়িঘড়ি করে সমঝোতা স্মারকে সই করাটা বাংলাদেশের ঠিক হয়নি। তার মতে, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আঞ্চলিক ও পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে খেলছে। সমঝোতায় না গিয়ে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করলে কিছুটা লাভ হতে পারত বলে মনে করেন তরুণ এই শিক্ষক।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু সুফিয়ান (সম্রাট) বলেন, রাশিয়া, ইউএসএ, এশিয়া প্যাসিফিক, চীন, ভারতের হিসাব-নিকাশের প্যাঁচে পড়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ সফল হতে পারছে না। বিইউপি’র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক উশ্রী বড়ুয়া বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ছে এখানে। কোয়াড নিয়ে চাপ রয়েছে। এজন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। সে কারণে ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সিবিজিএ’র চেয়ারম্যান ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই ঘণ্টার এই আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অনেকগুলো দিক উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে তরুণরা কী ভাবছেন সে বিষয়টিও উঠে এসেছে আলোচনায়। সাম্প্রতিক অস্থিরতা, সীমান্ত, প্রত্যাবাসন ও বাংলাদেশের চাওয়া এই চারটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতিসম্প্রতি মিয়ানমার যা করছে তা নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট সমাধানে ধারাবাহিক আলোচনা প্রয়োজন। এতে শুধু সরকার নয়, জনগনণকেও এগিয়ে আসার পরামর্শ তার।

দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত [লিংক]